মেঘের নাকি অনেক শক্তি! ধরনীতে আলো দানকারি সূর্য্যকে সে গ্রাস করে।
আবার মৃদু বাতাসে ছিন্নভিন্ন হয়ে ভেসে যায় দূরদূরান্তে..............
#আয়না
বৃটিশ
বিরোধী আন্দোলনের সময় মহাত্মাগান্ধী আন্দোলনের এক অভিনব পদ্ধতি উদ্ভাবন
করেন। তিনটি নীতির উভর ভিত্তি করে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যান। নীতিত্রয়
দেশে-বিদেশে খুবই সমাদৃত হয়েছে। নীতি তিনটির সাথে আমরা সবাই মোটামুটি
পরিচিত। রসিকরা এই তিন নীতিকে গান্ধীর তিন বানর বলে আখ্যায়িত করেন।
১. বুরা মাত শুন (খারাপ কিছু শুনবে না)
২. বুরা মাত দেখ (খারাপ কিছু দেখবে না)
৩. বুরা মাত বোলো (খারাপ কিছু বলবে না)
অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ’অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ,তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সম দহে।’
আমরা কিন্তু আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনে গান্ধী এবং রবীন্দ্রনাথের এক অপূর্ব
সংমিশ্রন অনুসরন করে থাকি। যখন আমাদের চারপাশে কোন অন্যায়, অবিচার, জুলুম,
অত্যাচার হয় আমারা সরাসরি গান্ধীর অনুসারী এবং যখন সেই অন্যায়, অবিচার,
জুলুম, অত্যাচার আমাদের নিজেদের উপর হয় তখন আমরা একজন আদর্শ রবীন্দ্র
প্রেমী হয়ে যাই। নিজের যোগ্যতা এবং ক্ষমতার উর্ধে উঠে প্রতিহত করার চেষ্টা
করি।
ব্লেন্ডিং এ সত্যিই আমরা অনন্য ।।
#ভাঙ্গাচশমা
কবে
কোথায় পড়েছিলাম না শুনেছিলাম তা এই মূহুর্তে মনে করতে পারছি না। একটা লাইন
বারবার মাথার মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে। হঠাৎ করে কেনই বা লাইনটা বারবার মনে মনে
আওড়াচ্ছি বুঝতে পারছি না।
আমার প্রায়ই এমনি হয়। জানি না,
অন্যান্যদেরও এমন হয় কিনা। হঠাৎ হঠাৎ দেখা যায় ছেলে বেলার কিছু কথা বা
স্মৃতি সারাদিন মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায়। মাঝে মাঝে এমনও হয়, যেন আমি দূরে
কোথায় হারিয়ে গেছি। আশে-পাশের কোন কিছুর সাথে তখন আর কোনপ্রকার সম্পর্ক থাকে না।
কখনও হারিয়ে যাই স্কুল জীবনে পড়া তিন গয়েন্দার কোন এক গল্পের মাঝে, কখনও
বা মাসুদ রানার। কখনও মনে হয় ঠাকুর মা’র ঝুলির কোন এক শাকচুন্নীর কল্পকথা,
কখনও হারিয়ে যাই ছড়া আর কবিতায়.......
বছরের এই সময়টা শিউলী ফুল
ফোটে। মাঝ রাতে হালকা কুয়াশার চাদর ঢেকে রাখে বাকি রাতটাকে। কখনও মনে হয়,
নি:শব্দ এই রাতটা কোন শিউলী গাছের নীচে বসে কুয়াশার চাদরে নিজেকে জড়িয়ে
তারাদের সাথে ভাব বিনিময় করি। মনে হয় ঐ নিশাচরদের সাথে প্রেম করি।
মনে পড়ে কাক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে দল বেধে যেতাম শিউলী ফুল কুড়াতে।
তারপর মালা গাথা এবং সেই মালা দিয়ে পুতুল বিয়ে। বান্ধবীরা তাদের পুতুল বিয়ে
দিতো ঐ কুড়ানো ফুল দিয়ে। আমারা সবাই আমাদের যার যার বাসা থেকে ১ গ্লাস
চাল, ডাল নিয়ে যেতাম সেই বিয়েতে। আহ! কি যে আনন্দ, কি যে সুখকর সেই
দিনগুলো..............
সেইসব সুখকর স্মৃতিগুলো এড়িয়ে আজ সকালে
কম্পিউটার খুলেই দেখলাম মান্না দে’র মৃত্যু সংবাদ। কি চমৎকারই না গাইতেন
তিনি। বিশেষ করে ’কফি হাউজের সেই আড্ডা ‘ গানটা অসাধারন। বাংলা ভাষাভাষির
এমন কেউ নেই যে এই গানটির প্রশংসা করবে না। যতবার শুনেছি ততোবারই মনে হতো
এই প্রথমবারের মতো শুনছি।
না, মান্না দে’র কোন গানের কোন পংক্তি
নয়। ছোট্র একটা লাইন আজ আমাকে ভিষন পিড়া দিচ্ছে। বারবার মনের অজান্তেই মনের
খাতায় আঁকিঝুকি করছে, যতো গর্জে ততো বর্ষে না.............
#খুনসুটি
সেই
ছোটবেলা হতে আজ পর্যন্ত কত্তো কত্তো Aim In Life পড়লাম আর শুনলাম। কিন্তু
দু:খজনক হলেও সত্য আজ পর্যন্ত কারও কোন Aim In Life পাইলামনা যে কিনা নেতা
হতে চায়...........
বুঝলাম না, এতো প্রফিটেবল বিজনেস কোন উপেক্ষিত ...........
#খুনসুটি
হে ধিনকা চিকা ধিনকা চিকা ধিনকা চিকা চিকা ... হে ....
কি হইছে? এতো নাচবার লাগছো কেলা?
মাম্মা, আহো, তুমিও নাচো...
নাচুম সমস্যা নাই, মাগার নাচবার লাগছোস কেলা....
মাম্মা, জনগন হরতাল প্রত্যাখ্যান করছে...
মানে?
মানে, আর কিছুই না, জনগন হরতাল সফল করছে....
কি আবোল তাবোল কইতাছস? একবার কছ প্রত্যাখ্যান করছে আবার কস সফল করছে। মাথা ঠিক আছে তো, না কি গেছস নাসিম-ফকরুল হইয়া......
না, মাম্মা, আমি ঠিকই আছি। সমস্যা হইছে তাগো, দেখোনা, একজন কয় জনগন
প্রত্যাহার করছে আর আরেকজন কয় সফল করছে.... আমি হালায়ওতো জনগন, আমি হালায়
পেটের খিদায় একবার রাস্তায় গেছি আবার জানের ভয়ে ঘরে আইসা বইয়া রইছি.......
তয় তারা কোন জনগনের কথা কয়........
#ভাঙ্গাচশমা
সুধি দর্শকবৃন্দ এখন আমরা সরাসরি কথা বলবো আমাদের সংবাদ প্রতিনিধির সাথে...
হ্যালো, এটা কি 2441139... দিননা ডেকে মুন্নীকে একবার....
জ্বি, হালিম, শুনতে পাচ্ছি...
ও আচ্ছা, যা বলছিলাম, এখনকার হরতাল পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের একটু ধারনা দেন...
হ্যাঁ হালিম, আপনি নিশ্চয় দেখতে পাচ্ছেন, শত শত মানুষ দল বেধে এগিয়ে আসছে।
তারা নিজেদের মধ্যে নিচু স্বরে কথা বলছে। কিন্তু কেউ কোন বিশেষ দলের
শ্লোগান দিচ্ছে না। মোটামুটি সবাই
হাসি-তামাশা করছে। সেই সাথে হালিম, আপনি দেখতে পাচ্ছেন, দলের মধ্যে বিভিন্ন
বয়সের নারী-পুরুষ সবাই আছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একটু গম্ভীর প্রকৃতির,
রাশভারী।
মুন্নী, এক মিনিট একটু লাইনে থাকুন, আমরা অন্য আর একটি লাইনে সরকারী দলের একজন নেতার সাথে কথা বলি....
জনাব, আমাদের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে শত শত মানুষ রাজপথে, এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?
লোকজন মাত্র আসা আরম্ভ করেছে। এখন মাত্র শত শত, আর দু’এক দিন পর দেখবেন
লাখ লাখ। বিরোধীদলের ধ্বংসাত্মক কাজে জনগন বিরক্ত হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে।
আজ তারা বিরোধীদলের হরতাল প্রত্যাখ্যান করছে....
ধন্যবাদ। এখন আমরা কথা বলবো বিরোধীদলের একজন নেতার সাথে...
জনাব, আমাদের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে শত শত মানুষ রাজপথে, এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?
জনগনের স্বতস্ফূর্ততাই বলে দিচ্ছে জনগন আর এই সরকারকে চায় না। তারা এখন
একটা বিপ্লব ঘটানোর জন্য প্রস্তুত। আজ তারা বয়স ভুলে সবাই রাজপথে নেমে
এসেছে। আজ তাদের চোখে-মুখের অভিব্যক্তিই বলে দিচ্ছে তার সরকারের পতন ঘটিয়েই
রাজপথ ত্যাগ করবে। জনগনের এই জোয়ারই সরকারের পতন ঘটিয়ে দিবে। আমি সরকারকে
বলতে চাই, এই জোয়ার আপনি প্রতিহত করবেন কিভাবে? এখনও সময় আছে আপনারা আমাদের
দাবি মেনে নিন। আর নাহলে........
ধন্যবাদ। আমরা এখন আবার মুন্নীর কাছে ফিরে যাচ্ছি।
মুন্নী, শুনতে পাচ্ছেন..
হ্যাঁ, হালিম, আপনি শুনতে পাচ্ছেন..
মুন্নী, দলের কারও সাথে কি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছিল? তারা আসলে কোন দলের
সমর্থনে রাজপথে বেরিয়ে এসেছে? তারা কি বলে শ্লোগান দিচ্ছে?
হালিম, আমি কয়েকবার তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু
যতবারই আমি তাদের কাছে যাচ্ছি ততোবারই তাদের মধ্যেকার অপেক্ষাকৃত কম বয়সী
ছেলে-মেয়েরা আমাকে দেখে গেয়ে উঠছে, ‘মুন্নী বদনাম হুয়ী ডার্লি তেরী
লিয়ে...’
তারপরও হালিম, আমি আবার চেষ্টা করছি....
হ্যালো ভাই,
আফা আমারে, জিগাইতাছেন!
জ্বি ভাই, বলেনতো আপনারা দল নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন?
জানিনা আফা, বেবাকতেরে দেখলাম হাটতাছে, আমিও হেগো লগে হাটতাছি....
তারা কি আপনাকে কোন টাকা-পয়সা দিয়েছে তাদের সাথে মিছিল করার জন্য...
না আফা, টেকা-পয়সা দিবো ক্যান, আমারেতো হেরা কেউ কিছু কয় নাই, আমি হুদাই হেগো লগে হাটতাছি...
ঠিক আছে, ধন্যবাদ। (অন্য আর একজনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করছি)
Excuse me,
জ্বি বলুন।
আপনারা কোন দলের সমর্থনে মিছিল করছেন বা জড়ো হচ্ছেন..
দলের সমর্থনে মানে!
না, এই যে, দল বেধে যাচ্ছেন, অথচ কেউ কোন শ্লোগান দিচ্ছেন না....
ও আচ্ছা, না মেডাম, তেমন কিছু না। আমরা সবাই যে যার যার অফিসে যাচ্ছি।
রাস্তায় যানবাহন খুবই কম তারউপর ঈদ পরবর্তী মাসের শেষ। আমাদের অনেকেরই
বেতনের টাকা ফুরিয়ে গেছে। সিএনজি বা অন্য কোন প্রাইভেট বাহন এ ভ্রমন করা
সম্ভব নয় বলে হেটে যাচ্ছি।
তাই বলে সবাই দল বেধে এক সাথে! অন্য কেউতো ভাবতে পারে আপনারা মিছিল বা মিটিং এ যোগদানের জন্য যাচ্ছেন...
তা ভাবতে পারে, কিন্তু আমরা আমাদের নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য দল বেধে
যাচ্ছি। যাতে কেউ আমাদের উপর অতর্কিতে হামলা চালাতে না পারে এবং সেই সাথে
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনী যাতে ভুলে আমাদের কোন একজনকে পিকেটার ভেবে ভুল
করতে না পারে.......
হ্যালো, হ্যালো, হ্যালো... দর্শকবৃন্দ আমাদের
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় আমরা দু:খিত। আমারা যোগাযোগের চেষ্টা করছি
এবং এই মূহুর্তে নিচ্ছি বিজ্ঞাপনের জন্য ছোট্র একটা ব্রেক। আমাদের সাথেই
থাকুন।
#ভাঙ্গাচশমা
Divide
and Rule, বাক্যটার সাথে কম-বেশী আমরা সবাই পরিচিত। বাক্যটি যদিও শাসন ও
শোষনের জন্য ব্যবহৃত হয় তথাপি এর নানামুখী ব্যবহারিক দিক রয়েছে। এটা মূলত
ব্যবস্থাপনার (Management) একটি যুগান্তকারী উক্তি।
যে কোন বড়
একটা কিছুর ব্যবস্থাপনা খুবই কষ্টসাধ্য। কিন্তু যদি একে ছোট ছোট খন্ডে
বিভক্ত করা হয় তবে খুব সহজেই তাকে ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ফলাফল আদায় করা
সম্ভব। এই জন্য যুগে যুগে আধুনিক ব্যবস্থাপনায় এই বাক্যটিকে আমরা আমাদের অজান্তেই ব্যবহার করে থাকি।
উদাহরন স্বরূপ যদি আমারা আমাদের যে কোন প্রজেক্টকে ধরি, তাহলে Divide and
Rule এর ব্যবহার স্পষ্টভাবেই আমাদের দৃষ্টিগোচর হবে। যে কোন প্রজেক্টকে
আমরা প্রথমেই বিভিন্ন খন্ডে (Module) বিভিক্ত করি এবং Critical Path দ্বারা
মডিউলগুলোর মধ্যে একটা সম্পর্ক স্থাপন করি। পরে সমস্ত মডিউলগুলো একসাথে
করে একটা পূর্নাঙ্গ প্রোজেক্ট দাঁড় করাই।
আমরা আমাদের
কর্মস্থলগুলোতে দৃষ্টিপাত করলেও একই চিত্র দেখতে পাবো। সম্পূর্ন স্টাফদেরকে
কাজের ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে বিভক্ত করা হয় এবং
মানব সম্পদ বিভাগ এই ডিপার্টমেন্টগুলোর মাঝে একটা সমন্নয় সৃষ্টি করে। এই
পদ্ধতি ব্যবহার করে স্টাফদের সৃজনশীলতার ও কর্মক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার
সম্ভব।
ঠিক তেমনিভাবে রাজনীতিতেও একই পদ্ধতি অনুসরন করা হচ্ছে।
বিজ্ঞ রাজনীতিবীদরা সমগ্র জাতিকে বিভিন্ন দলে বা গোষ্ঠীতে বিভক্ত করে
অনায়াসে শাসন বা শোষন করে থাকেন। আসুন দেখা যাক সেই বিজ্ঞ রাজনীতিবীদরা
আমাদেরকে কতগুলো খন্ডে বিভক্ত করেছেন....
১. সরকারী দল ২. সরকারী
ক্যাডার বাহিনী ৩. বিরোধীদল ৪. আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী (পুলিশ,
র্যাব, বিজিবি), ৫. আর্মি ৬. জঙ্গী ৭. মৌলবাদী ৮. আস্তিক ৯. নাস্তিক ১০.
শাহাবাগী ১১. হেফাজতি ইত্যাদি ইত্যাদি।
অথচ, আমরা সবাই স্বাধীন
বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা সবাই একই জাতীয়তায় বিশ্বাসী। সবাই একই ভূখন্ডের
অধিবাসী। তারপরও কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সমগ্র জাতিকে বিভক্ত করে
পারষ্পরিক দাঙ্গা হাঙ্গামায় উসকে দিয়ে তাদের মসনদ আরোহনের আকাংক্ষা
চরিতার্থ করে থাকেন...............
#ভাঙ্গাচশমা